আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চরমপন্থী বৌদ্ধদের সমর্থিত একটি বিতর্কিত আইনে স্বাক্ষর করেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন। সোমবার এ আইনটিতে স্বাক্ষর করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এই আইনটি দেশটিতে বসবাসরত সংখ্যালঘু মুসলমানদের হয়রানি করতে প্রয়োগ করা হবে। তবে দেশটির সরকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
বৌদ্ধ চরমপন্থীদের সংগঠন মা বা থা ‘ধর্ম ও জাতি রক্ষা আইন’ শীর্ষক সরকারের কাছে যে চারটি আইন পাসের দাবি জানিয়েছিল নতুন পাস হওয়া আইনটি তারই অংশ। এর আগে মা বা থা’র উত্থাপিত জনসংখ্যা আইন পাস করেছিল সরকার। ওই আইন অনুযায়ী, এক সন্তান নেয়ার পর পরবর্তী সন্তান নিতে হলে কমপক্ষে তিন বছরের বিরতি দিতে হবে। মূলত মুসলমান জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন করতে এ বিল পাস করা হয়েছিল।
সোমবার প্রেসিডেন্ট যে আইনটিতে স্বাক্ষর করেছেন সেটি হচ্ছে এক বিয়ে সংক্রান্ত আইন। অর্থাৎ এ আইন অনুযায়ী একের অধিক স্ত্রী রাখা দণ্ডযোগ্য অপরাধ।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বিলটি গত ২১ আগস্ট সংসদে পাস হয়েছিল। স্বাক্ষরের আগে প্রেসিডেন্ট এটি রিভিউয়ের জন্য ফের সংসদে পাঠিয়েছিলেন। এ বিলটি পাসের আগে গত ২৬ আগস্ট প্রেসিডেন্ট আরও দুটি আইনে স্বাক্ষর করেন। এর একটি হচ্ছে ধর্ম পরিবর্তন ও অপরটি হচ্ছে ভিন্ন ধর্মে বিবাহ সংক্রান্ত আইন।
মিয়ানমারের মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র পাঁচ শতাংশ মুসলমান। ২০১১ সালে দেশটিতে সেনাবাহিনী বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। এরপর থেকে দেশটিতে মুসলমানদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালাচ্ছে চরমপন্থী বৌদ্ধরা। দেশটিতে দুই দশক পরে আগামি ৮ নভেম্বর প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে নির্বাচনে সমর্থন পেতেই সংখ্যালঘু বৌদ্ধদের দাবি অনুযায়ী মুসলমানবিরোধী বিভিন্ন আইন পাস করছে সরকার।